নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হতে পারে, হঠাৎ আক্রমণের আশঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ সারাদিন
📅 প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৫
মূল খবর
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের চক্রান্ত ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন,
“দেশের ভেতরে ও বাইরে কিছু শক্তি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বানচাল করার চেষ্টা করবে। হঠাৎ করেই আক্রমণ আসতে পারে—এটি শুধু শারীরিক নয়, তথ্য ও সাইবার মাধ্যমেও হতে পারে।”
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই সতর্কতা দেন। বৈঠকে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনিক প্রস্তুতি
সভায় মাঠ প্রশাসনের পদায়ন, আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ, ব্যালট ও ইভিএম ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচনের সময় সারাদেশে দায়িত্ব পালন করবেন—
প্রতিটি উপজেলায় গঠিত হচ্ছে দুটি মনিটরিং কমিটি—
সাইবার ও সামাজিকমাধ্যমে সতর্কতা
সভায় আলোচনায় উঠে আসে, নির্বাচনের সময় “ডিজিটাল যুদ্ধ” এখন অন্যতম বড় ঝুঁকি।
বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ও সহিংসতা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বিটিআরসি যৌথভাবে একটি
নির্বাচনকালীন সাইবার পর্যবেক্ষণ সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সেলের কাজ হবে—ভুয়া খবর শনাক্ত করা, অপপ্রচারমূলক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি
প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে মাঠের প্রতিটি কর্মকর্তাকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।”
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ভোটের আগে থেকেই তারা প্রশাসনকে সহায়তা করবে।
বিশেষ করে সংবেদনশীল এলাকায় মোবাইল ইউনিট তৈরি রাখা হবে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত মোতায়েন করা যায়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা ইঙ্গিত দিচ্ছে কঠিন একটি নির্বাচনী সময়ের।
আন্তর্জাতিক মহলের চাপ, অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও ডিজিটাল অপপ্রচার—তিন দিক থেকেই পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রাশেদুল আলম বলেন,
“নির্বাচন বানচালের চেষ্টা এখন শুধু রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নয়—এটি ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা ও বিভ্রান্তি তৈরির এক নতুন যুদ্ধক্ষেত্র।”
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান
ইসির এক কমিশনার জানান, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের একাধিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন,
“জনগণ যেন ভয় বা বিভ্রান্তি ছাড়াই ভোট দিতে পারে—এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
সারসংক্ষেপ
সরকার ও নির্বাচন কমিশন উভয়ই বলছে—বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে।
তবে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র, ডিজিটাল অপপ্রচার এবং হঠাৎ অস্থিতিশীলতা—এই তিন দিকেই এখন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।