আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের জন্য ভয়ভীতি ও আতঙ্কহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে—এমন আশা প্রকাশ করেছে জাতীয় পার্টির একাংশ। দলটির নেতারা বলেছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দলের জন্য সমান সুযোগ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
রোববার রাতে গুলশানের হাওলাদার টাওয়ারে অনুষ্ঠিত এক জরুরি প্রেসিডিয়াম সভায় জাতীয় পার্টির নেতারা এসব প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়। চার ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনে অংশগ্রহণের কৌশল এবং সাংগঠনিক কর্মকৌশল সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন, সাহিদুর রহমান, লিয়াকত হোসেন, জহিরুল ইসলাম, মোস্তফা আল মাহমুদসহ অন্যান্য নেতারা। সভার সূচনা বক্তব্য দেন মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টি আশা করে অন্তর্বর্তী সরকার সবার অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পদক্ষেপ নেবে। বিশেষ করে, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যেখানে সব রাজনৈতিক দল সমানভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারে।
জাতীয় পার্টি প্রশাসনে দলীয় সমর্থক কর্মকর্তাদের পরিবর্তে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “বর্তমান সরকার আন্তরিক হলে, সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোট উৎসবের মধ্য দিয়ে দেশের নতুন গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হতে পারে।”
দলটি জানিয়েছে, তারা আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “গত ৩৫ বছর ধরে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় পার্টি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।”
তবে নেতারা আরও জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণের ধরন ও প্রক্রিয়া পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে। তার আগে, জাতীয় পার্টির নেতাদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানান তারা।


















